থানায় দালালদের ঠাঁই নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি, পুলিশকে জরুরি নির্দেশনা
- পোষ্ট টাইম : 2026-05-02 18:40:51
- 8375 বার পঠিত
দেশের সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়ের স্থল হিসেবে পরিচিত থানাগুলোকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে এক বড় ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশের প্রতিটি থানাকে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এই নির্দেশনার কথা জানান।
দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন থানায় সাধারণ মানুষের সেবা পেতে গিয়ে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ আসছিল। বিশেষ করে জিডি (সাধারণ ডায়েরি), মামলা দায়ের কিংবা পাসপোর্টের ভেরিফিকেশনের মতো স্পর্শকাতর কাজে সাধারণ মানুষকে এই অসাধু চক্রের কবলে পড়তে হতো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “থানা হবে সাধারণ মানুষের নির্ভয় ও ভরসার কেন্দ্রস্থল। সেখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর জায়গা হবে না। যদি কোনো থানায় দালালের উপস্থিতি পাওয়া যায়, তবে কেবল ওই দালালের বিরুদ্ধেই নয়, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বৈঠকে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) সহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মন্ত্রী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন:
সরাসরি সেবা নিশ্চিতকরণ: সেবাগ্রহীতা যেন কোনো তৃতীয় পক্ষের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি ডিউটি অফিসারের সাথে কথা বলতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সিসিটিভি মনিটরিং: থানার প্রবেশপথ ও ডিউটি অফিসারের কক্ষে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি সক্রিয় রাখতে হবে এবং তা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয় থেকে মনিটর করা হবে।
অভিযোগ বক্স: প্রতিটি থানায় একটি করে স্বচ্ছ অভিযোগ বক্স থাকবে, যেখানে ভুক্তভোগীরা সরাসরি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে হয়রানির অভিযোগ জানাতে পারবেন।
ডিজিটাল সেবা বৃদ্ধি: জিডি বা অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করতে হবে যাতে দালালদের হস্তক্ষেপের সুযোগ কমে যায়।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, অনেক ক্ষেত্রে গ্রামের সহজ-সরল মানুষ আইনি জটিলতা বুঝতে না পেরে দালালদের স্মরণাপন্ন হন। এই সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয় এবং পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে। তিনি পুলিশ বাহিনীকে জনগণের সাথে পেশাদারিত্ব ও বিনয়ের সাথে আচরণ করার পরামর্শ দেন।
তিনি আরও যোগ করেন, “পুলিশ বাহিনীতে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। আমরা চাই না গুটিকয়েক দালালের অপকর্মের জন্য পুরো বাহিনীর অর্জন ম্লান হয়ে যাক। এখন থেকে থানায় কোনো ব্যক্তি কোনো বিশেষ পরিচয়ে অনৈতিক সুবিধা চাইলে তাকে সাথে সাথে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশেই কমে আসবে। তবে মাঠ পর্যায়ে এর প্রকৃত বাস্তবায়ন কতটুকু হচ্ছে, তা কঠোরভাবে নজরদারি করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
আজকের এই ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ জনমনে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা স্থানীয় সিন্ডিকেটের বাধা কাটিয়ে পুলিশ প্রশাসন দ্রুতই 'দালালমুক্ত থানা' উপহার দিতে সক্ষম হবে।
