ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করতে হাইকোর্টের রুল #ইউপি_চেয়ারম্যান #হাইকোর্ট
- পোষ্ট টাইম : 2026-07-22 22:01:56
- 1714 বার পঠিত
রামগঞ্জ প্রতিনিধি মো: আব্দুর রহিম
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিদ্যমান আইনে এ বিষয়ে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ না থাকায় সংশ্লিষ্ট বিধান কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
বুধবার (২২ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন। রুলের জবাব দিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ২৬ ধারায় ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর জন্য কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়নি। অথচ একজন ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন বিচারিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য ন্যূনতম স্নাতক শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন বলে রিটকারীরা দাবি করেন।
আদালত রুলে জানতে চেয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে বিদ্যমান আইন কেন সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঘোষণা করা হবে না।
আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রাম আদালত আইনের আওতায় ইউপি চেয়ারম্যানকে গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক না থাকায় আইনগত ও বাস্তবিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়েছে।
তবে আদালতের এই রুল চূড়ান্ত রায় নয়। এটি মূলত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার একটি প্রাথমিক আদেশ। রুলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। ফলে আপাতত ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার বিদ্যমান আইনি যোগ্যতায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
