আবু সাঈদ হত্যা মামলা: ২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনের যাবজ্জীবনসহ ২৫ জনের কারাদণ্ড
- পোষ্ট টাইম : 2026-04-09 17:16:55
- 16522 বার পঠিত
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হওয়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে আদালত অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন সাজা প্রদান করেছেন:
মৃত্যুদণ্ড (২ জন): সরাসরি গুলি চালানোর দায়ে সাবেক এএসআই (সশস্ত্র) মো. আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়-কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা উভয়ই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (৩ জন): পলাতক থাকা সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম এবং সাবেক এসআই বিভূতি ভূষণ রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন মেয়াদে সাজা (২৫ জন):
১০ বছর কারাদণ্ড: বেরোবির সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ, সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান, সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান এবং তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি পোমেল বড়ুয়াসহ ৫ জন।
৫ বছর কারাদণ্ড: সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম এবং সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেনসহ ৮ জন।
৩ বছর কারাদণ্ড: বেরোবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম এবং আরও ১২ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারীকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।
রায় প্রদানের সময় বিচারপতি বলেন, আবু সাঈদ কোনো অস্ত্র ছাড়াই দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাকে যেভাবে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়েছে, তা চরম মানবতাবিরোধী অপরাধ। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যারা এই ঘটনায় উসকানি বা সরাসরি সহায়তা করেছেন, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হয়নি।
সাক্ষ্য গ্রহণ: এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
অভিযোগপত্র: গত বছরের (২০২৫) ২৪ জুন পিবিআই ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে চার্জশিট দাখিল করেছিল।
আইনগত ভিত্তি: আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) সংশোধন আইন ২০২৬ পাসের পর এটিই ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট অন্যতম প্রথম বড় রায়।
হুকুমদাতা উচ্চ পদস্থদের ফাসির দাবিতে রায়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন তাঁর বাবা মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগম।
এই রায়টি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, যা জুলাই বিপ্লবের শহীদের রক্তের মর্যাদা নিশ্চিত করল।
