|
বঙ্গাব্দ | শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

www.bdcrimewatch.com : একটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, অবানিজ্যিক, সমাজসেবা মূলক উদ্যোগ।
আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া অনিয়ম, অসঙ্গতি ও অপরাধের তথ্য দিতে যোগাযোগ করুন।

Big Adds 2

দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় ১১ শিশুর মৃত্যু, উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

Reporter
রিপোর্টারের নামঃ MAMUNUR RAHMAN
  • পোষ্ট টাইম : 2026-04-26 00:40:16
  • 10570 বার পঠিত
দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় ১১ শিশুর মৃত্যু, উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
ছবির ক্যাপশন: দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় ১১ শিশুর মৃত্যু, উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম এর উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন নিশ্চিত রোগী মিলিয়ে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫১ জনে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বাংলাদেশের এই পরিস্থিতিকেউচ্চ ঝুঁকিপূর্ণবলে চিহ্নিত করেছে।

পরিসংখ্যানের উদ্বেগজনক চিত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাজার ৫৮ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এদের মধ্যে ২২৯ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬০৭ জনে, যার মধ্যে হাজার ৪৬০ জনের শরীরে সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ২০৯ জন এবং নিশ্চিত সংক্রমণে ৪২ জন শিশু মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ৯১ শতাংশেরই বয়স থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, মৃত শিশুদের প্রায় সবাই হয় সম্পূর্ণ টিকা পায়নি অথবা কেবল এক ডোজ টিকা পেয়েছিল।

ঝুঁকিতে ৫৮ জেলা বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। এছাড়া রাজশাহী, চট্টগ্রাম খুলনা বিভাগেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী শনাক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলোতে সংক্রমণের তীব্রতা বেশি দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন আক্রান্ত শিশু থেকে অন্তত ১৬-১৭ জন সুস্থ শিশু সংক্রমিত হতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

কেন এই আকস্মিক প্রকোপ? জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা মহামারীর সময় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়া এবং অনেক শিশুর দ্বিতীয় ডোজ (১৫ মাসে) টিকা বাদ পড়া এই প্রাদুর্ভাবের অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া ভিটামিনক্যাপসুল খাওয়ানোর ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকাও শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ জানান, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো দুই ডোজ টিকা নিশ্চিত করতে না পারলে এটি মহামারি আকার ধারণ করতে পারে।

সরকারের জরুরি পদক্ষেপ পরামর্শ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে ১৮টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় জরুরি ভিত্তিতে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। ইউনিসেফ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় এই কার্যক্রমে ভিটামিনসাপ্লিমেন্টেশনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও জাতীয় সংসদে এই সংকটের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, শিশুর শরীরে জ্বর লালচে দানা দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে। বিশেষ করে শিশু যদি খেতে না পারে, খিঁচুনি হয় বা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তবে তা অত্যন্ত জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

বর্তমানে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে হামের জন্য বিশেষায়িত ইউনিট খোলা হয়েছে। তবে টিকার পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ bdcrimewatch.com | Crime Watch | reliable news portal | অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ

কারিগরী সহযোগিতায়: DHAKA SUPPLIER