একদিকে তীব্র দাবদাহ, অন্যদিকে তীব্র ঝড়ের পূর্বাভাস: দেশের ৭ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা
- পোষ্ট টাইম : 2026-05-16 19:06:54
- 4103 বার পঠিত
ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত বৈচিত্র্যের কারণে দেশের আবহাওয়ায় এখন এক দ্বিমুখী রূপ দেখা যাচ্ছে। দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে জনজীবন ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছে। তবে এই চরম দাবদাহের মধ্যেই স্বস্তির আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি)। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের ৭টি অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব অঞ্চলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য দেওয়া আবহাওয়ার বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে—রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে এসব এলাকায় প্রবল বিজলি চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
নদী অববাহিকার এই অঞ্চলগুলোতে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বিবেচনায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত (যাতে বলা হয়েছে সাবধানে চলাচল করতে) বজায় রাখতে বলা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে, যার ফলে এই বজ্রঝড়ের (কালবৈশাখী) মেঘ তৈরি হচ্ছে।
ঝড়ের পূর্বাভাস উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে স্বস্তি আনলেও দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, খুলনা, মোংলা এবং পাবনার ঈশ্বরদী অঞ্চলের ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ (৪০ ডিগ্রি থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বয়ে যাচ্ছে। টানা কয়েকদিন ধরে বৃষ্টিহীন এই অঞ্চলে বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, রিকশাচালক ও দিনমজুরেরা দুপুরের তীব্র রোদে বাইরে বের হতে পারছেন না। হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়া, ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা এবং হিট স্ট্রোকের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। চুয়াডাঙ্গা ও যশোরে আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রাজধানী ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও সকাল থেকে প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ রাতের দিকে অথবা আগামীকাল বিকেলের মধ্যে ঢাকায় কালবৈশাখী ঝড় ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। যদি বৃষ্টি হয়, তবে ঢাকার তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসতে পারে, যা নগরবাসীকে সাময়িক স্বস্তি দেবে।
চলতি এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে আম ও লিচু চাষিরা বড় ধরনের দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চাষিদের এই তীব্র গরমে আম ও লিচুর বোঁটায় নিয়মিত পানি স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে ফল ঝরে না পড়ে।
অন্যদিকে, তীব্র গরমের কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের রোদে বাইরে বের না হতে, ছাতা ব্যবহার করতে এবং বেশি করে নিরাপদ পানি ও স্যালাইন পানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে আবহাওয়া অফিস আশ্বস্ত করেছে যে, আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলেও বৃষ্টির বিস্তার ঘটতে পারে, যার ফলে চলতি মেয়াদের এই দাবদাহ পুরোপুরি প্রশমিত হবে।
