সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব: দেশজুড়ে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
- পোষ্ট টাইম : 2026-07-10 13:18:27
- 6845 বার পঠিত
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই বৃষ্টিপাত আগামী আরও অন্তত দুই থেকে তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা তৈরি হওয়ার কারণে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চল এবং দেশের ১৪টি অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোতে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।
টানা এই বর্ষণের ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর তীব্রভাবে সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
এর ফলে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। মোংলা, চট্টগ্রাম, পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকাকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত নামিয়ে সাবধানে থাকতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের সবকটি বিভাগেই কম-বেশি বৃষ্টিপাত হবে। তবে কিছু কিছু এলাকায় এর তীব্রতা অনেক বেশি থাকবে।
ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল: রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা রয়েছে। দফায় দফায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হচ্ছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় বৃষ্টি থামার পর কিছুটা ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।
চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগ: এই তিন বিভাগে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে। উপকূলীয় এবং মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা জেলাগুলোতে অতি ভারী (৮৯ মিলিমিটার বা তার বেশি) বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগ: এসব অঞ্চলেও অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
টানা কয়েকদিনের অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য জেলাগুলো—যেমন রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং কক্সবাজারের পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি নরম হয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বিশেষ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, ভারী বর্ষণের ফলে এসব পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস বা পাহাড়ধসের উচ্চ আশঙ্কা রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
এদিকে, সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং দেশের ভেতরের ভারী বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
টানা বৃষ্টির কারণে দেশের প্রধান শহরগুলোর নিচু রাস্তায় পানি জমে গেছে। ঢাকার কারওয়ান বাজার, মিরপুর, পুরান ঢাকা এবং চট্টগ্রামের চকবাজার, বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সকালের দিকে অফিসগামী যাত্রী এবং জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। গণপরিবহনের সংকট এবং বাড়তি ভাড়ার কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
