|
বঙ্গাব্দ | শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

www.bdcrimewatch.com : একটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, অবানিজ্যিক, সমাজসেবা মূলক উদ্যোগ।
আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া অনিয়ম, অসঙ্গতি ও অপরাধের তথ্য দিতে যোগাযোগ করুন।

Big Adds 2

ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের কঠোর নির্দেশ শ্রমমন্ত্রীর

Reporter
রিপোর্টারের নামঃ MAMUNUR RAHMAN
  • পোষ্ট টাইম : 2026-03-14 17:57:51
  • 25181 বার পঠিত
ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের কঠোর নির্দেশ শ্রমমন্ত্রীর
ছবির ক্যাপশন: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের সকল শিল্প কলকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন এবং ঈদ বোনাস সরকারি ছুটির আগেই পরিশোধ করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বেতন-বোনাস নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা বা অজুহাত বরদাশত করা হবে না। আজ শনিবার সকালে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জরুরি ত্রিপক্ষীয় সভায় তিনি এই নির্দেশ প্রদান করেন।

সরকার, মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় দেশের বর্তমান শিল্প পরিস্থিতি এবং আসন্ন ঈদে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়টি বিস্তারিত আলোচিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ-র শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, "শ্রমিকরা আমাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাদের ঘাম ও শ্রমের বিনিময়ে আমাদের রপ্তানি খাত টিকে আছে। ঈদের আনন্দ যেন তাদের ঘরে নিরানন্দ হয়ে না ফেরে, সেটা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। কোনো অবস্থাতেই বেতন বা বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করা যাবে না।"

সভায় শ্রমমন্ত্রী একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়ে বলেন, ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার অন্তত তিন থেকে পাঁচ দিন আগেই শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন এবং উৎসব ভাতা (বোনাস) বুঝিয়ে দিতে হবে। তিনি মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনারা ব্যবসার লাভ-ক্ষতি হিসাব করেন, কিন্তু মনে রাখবেন শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করা দয়া নয়, এটি তাদের অধিকার। অনেক সময় দেখা যায় ঈদের আগের রাতেও অনেক কারখানা মালিক শ্রমিকদের বেতন দেন না, যা অত্যন্ত অমানবিক।"

বেতন-বোনাস পরিশোধে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি 'বিশেষ মনিটরিং সেল' গঠন করা হয়েছে। এই সেল শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিয়মিত তদারকি করবে। বিশেষ করে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের পোশাক কারখানাগুলোর ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে। যদি কোনো কারখানা আর্থিক সংকটের কারণে বেতন দিতে অপরাগ হয়, তবে তাদের আগাম তথ্য দিয়ে সমাধানের পথ খোঁজার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায়, আইন অমান্যকারী কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী।

সভায় শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন যে, প্রতি বছরই কিছু অসাধু মালিক শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে ঘোরানো-পেঁচানো করেন। তারা দাবি করেন, বোনাস যেন মূল বেতনের সমপরিমাণ হয় এবং চলতি মাসের অন্তত ১৫ দিনের বেতনও যেন অগ্রিম দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ আশ্বাস দিয়ে বলেন, তারা ইতিমধ্যে তাদের সদস্যভুক্ত কারখানাগুলোকে বেতন-বোনাস পরিশোধের জন্য সার্কুলার জারি করেছেন। তবে তারা ব্যাংকগুলোকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান যাতে কারখানাগুলো সময়মতো এলসি বা ঋণের মাধ্যমে নগদ অর্থ হাতে পায়।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শিল্প পুলিশকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, "ঈদের আগে বেতন-বোনাস কেন্দ্র করে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন শ্রমিকদের উসকে দিয়ে শিল্প এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।" তিনি শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতিও আহ্বান জানান যেন তারা কোনো গুজবে কান না দিয়ে ধৈর্য ধরেন এবং যেকোনো সমস্যায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (DIFE) এর হেল্পলাইনে যোগাযোগ করেন।

আলোচনা শেষে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এবছর মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে এবং সকল শ্রমিক হাসিমুখে পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন। তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, আগামী সপ্তাহ থেকে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সারা দেশের শিল্প এলাকাগুলোতে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।


নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ bdcrimewatch.com | Crime Watch | reliable news portal | অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ

কারিগরী সহযোগিতায়: DHAKA SUPPLIER